প্রশিক্ষণেই আটকে আছে কার্যক্রম

লোগো অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট

জাতীয়

অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটে লোকবল ও সরঞ্জামের অভাব

প্রশিক্ষণেই আটকে আছে কার্যক্রম

  • আজাদ হোসেন সুমন
  • প্রকাশিত ২ এপ্রিল, ২০১৯

পর্যাপ্ত লোকবল ও সরঞ্জামের অভাবে নবগঠিত পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার নীতি থাকলেও পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সহযোগিতায় কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে জঙ্গিবাদ নির্মূলে গঠিত বিশেষ এ ইউনিটকে। এর পাশাপাশি হুট করেই বদল হয়ে গেছেন ইউনিটপ্রধান।

এ অবস্থায় দুই বছর পার হলেও ইউনিটটি এখনো পুরোদমে কাজ শুরু করতে পারেনি। ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতে এখনো টেন্ডার আহ্বান করেনি পুলিশ সদর দফতর। তারা এখনো প্রশিক্ষণের মধ্যেই কর্মকাণ্ড সীমাবদ্ধ রেখেছে।

পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানায়, ইউনিটের জনবল কাঠামো ৫৮১ জনের। এর মধ্যে ৪৫০ জনের মতো নিয়োগ হয়েছে। ইউনিটের প্রধান হিসেবে একজন অতিরিক্ত আইজি, একজন ডিআইজি, দুজন অতিরিক্ত ডিআইজি, পাঁচজন এসপি, ১০ জন অ্যাডিশনাল এসপিকে পদায়ন করা হয়েছে। সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ১২ জন এখনো পুরোপুরি পদায়ন হয়নি। ৭৫ জন পরিদর্শককে পদায়ন করা হয়েছে। ১২৫ জন উপ-পরিদর্শকের মধ্যে এখনো কিছু নিয়োগ বাকি আছে। কনস্টেবলসহ অন্যান্য পদেও পদায়ন পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি।

অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের ইক্যুইপমেন্ট ক্রয়ে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে কি না জানতে চাইলে পুলিশ সদর দফতরের ইক্যুইপমেন্ট শাখার এআইজি তানভীর মমতাজ বলেন, শুধুমাত্র অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের জন্যই নয়, পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের জন্য প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম কেনার বিষয়টি চলমান প্রক্রিয়া। একটি প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। জঙ্গি প্রতিরোধ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলছিলেন, এ সময় জঙ্গি প্রতিরোধ নিয়ে বেশি কাজ করত র্যাব। ২০১৩ সাল থেকে ধারাবাহিক টার্গেট কিলিং এবং ২০১৫ সালে এসে তার ব্যাপকতা বেড়ে যাওয়ায় ২০১৬ সালের শুরুর দিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) নামে একটি নতুন ইউনিট গঠন করা হয়। এই ইউনিট শুধু আইজিপির নির্দেশেই ঢাকার বাইরে অপারেশনে যেতে পারে। সেজন্য অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট গঠন করা হয়। সিটিটিসিও অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের অধীনেই কাজ করবে।

অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা বলছেন, ইউনিটের অর্গানোগ্রাম ও জনবল নিয়োগ সম্পন্ন না হলেও তারা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছেন। তবে পুরোদমে কাজ শুরু করতে আরো কিছুদিন সময় লাগবে। প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতে টেন্ডার আহ্বান করার জন্য পুলিশ সদর দফতরে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, জঙ্গিবাদবিরোধী অভিযান কিংবা অপারেশনে যেতে অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের সদস্যরা পুরোপুরি প্রস্তুত। তবে অন্য একটি সূত্র বলছে, অপরাধ দমনে ব্যবহূত প্রযুক্তিগত যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম হাতে না পাওয়ায় স্বতন্ত্রভাবে অপারেশন পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। জঙ্গি কর্মকাণ্ড প্রতিরোধের কাজে এখন প্রযুক্তির সহায়তা অপরিহার্য। তাই সেই প্রযুক্তিগত সরঞ্জামগুলোর জন্য যে টেন্ডার করতে হয় সেটা প্রক্রিয়াধীন আছে। অর্থমূল্য অনেক বেশি হওয়ায় এসব সরঞ্জামের টেন্ডার আহ্বান এখনো প্রক্রিয়াধীন।

এ ব্যাপারে অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটপ্রধান অতিরিক্ত আইজিপি আবুল কাশেম বাংলাদেশের খবরকে বলেন, ইউনিটের সব পর্যায়ের সদস্যদের প্রশিক্ষণ চলছে। দেশের বাইরে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতেও অনেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং নিচ্ছেন। প্রশিক্ষণ শেষ হলে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম তাদের দিতে হবে। নিজস্ব সরঞ্জামের অভাবে এখন সরাসরি অপারেশনে যাওয়া যাচ্ছে না। পুলিশ সদর দফতরের এলআইসির মাধ্যমে এখন এই ইউনিট কাজ করছে। তিনি বলেন, লোকবল প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি না পাওয়া পর্যন্ত আমাদের এভাবেই চলতে হবে।

অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট সূত্র আরো জানায়, সারা দেশে এখনো ইউনিটের স্থানীয় অফিস করা যায়নি। শুধুমাত্র জঙ্গি বিষয়ে গোয়েন্দা কার্যক্রম চালানোর জন্য ঢাকা থেকেই সাদা পোশাকে অফিসার পাঠানো হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। ঢাকা মহানগর পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সিটিটিসি জঙ্গি কার্যক্রমের বাইরেও কিছু কাজ করে। কিন্তু অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট শুধুমাত্র জঙ্গি নিয়েই কাজ করবে। জঙ্গির বাইরে কোনো কাজে এই ইউনিট ব্যবহার করা হবে না।

সূত্রের দাবি, সাবেক ইউনিটপ্রধান শফিকুল ইসলাম প্রথম ইউনিটপ্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন। তিনি কারাগারে থাকা জঙ্গিদের ডি রেডিকালাইজেশনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেটা তিনি বাস্তবায়ন করার আগ মুহূর্তে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় তার বদলি হয়ে যায় পুলিশ সদর দফতরে। সেখানে যোগ দেন রেলওয়ে রেঞ্জের অতিরিক্ত আইজিপি আবুল কাশেম।

এ ব্যাপারে সাবেক এটিইউ প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি শফিকুল ইসলাম বাংলাদেশের খবরকে বলেন, বদলি হচ্ছে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এটা হওয়া দোষের কিছু নয়। ডি রেডিকালাইজেশন সম্পর্কে তিনি বলেন, জঙ্গিবাদকে চেতনা মনে করে জঙ্গিরা। তারা অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করে ব্রেন ওয়াশ করে। সুতরাং জঙ্গিদের মননে-মগজে ঢুকে যাওয়া চেতনাকে বিলুপ্ত করতেই কারাগারে তাদের জন্য ওরিয়েন্টেশন করানো গেলে দেশ থেকে জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণ করা সহজতর হতো বলে আমি মনে করি।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads