চতুর্থ ধাপে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌরসভার নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল থেকেই ভোটারদের পদচারণায় জমজমাট প্রতিটি ভোটকেন্দ্র। সকাল ৮টা থেকে ১১টি কেন্দ্রে ৮২ বুথে চলে একটানা ভোটগ্রহণ। ভোট শেষ হয় বিকেল ৪টায়।
এদিকে পৌর শহরের দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুপুর ২টায় কথা হয় ওই গ্রামের বাসিন্দা ভোটার মো. আব্দুই হাই (১০০) সাথে। তিনি নাতীর হাত ধরে ভোট দিতে এসেছেন ভোটকেন্দ্রে। বয়সের কারণে হাঁটতে না পাড়ায় তাই তিনি নাতীকে নিয়ে ভোট দিতে আসেন। কেন্দ্রে ভোট দিয়ে জানিয়েছেন নিজের প্রতিক্রিয়া ও।
তিনি বলেন, নির্বাচন আসলে অনেক সময় পরিবেশ না থাকায় ভোট দিতে পারতেন না। কিন্তু এই নির্বাচনে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরে খুবই ভাল লেগেছে বলে জানায়। তিনি আরো বলেন আগে সিল আর টিপ দিতাম। এখন আঙ্গুলে চাপ দিলে নিজের ছবি দেখতে পাওয়া যায়। তাছাড়া ভোট দিতে কোন সমস্যা হয়নি ।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বয়স অনেক হয়েছে। এই বয়সে ভোট কেন্দ্রে আসতে খুবই কষ্ট হয়। কিন্তু এলাকার উন্নয়নের কথা চিন্তা করে কেন্দ্রে ভোট দিতে আসেন বলে জানায়। এবারের নির্বাচনের পরিবেশ অনেক সুন্দর ছিল। খুবই কম সময়ের মধ্যে ভোট দিতে পেরেছি।
জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান জানান, প্রথম বারের মতো ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট হওয়ায় ভোটারদের সচেতনতার প্রতেটি কেন্দ্রে মক ভোট প্রশিক্ষণ ও লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে।
নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করছেন। এ নির্বাচনে ১১জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৮২ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও ১৬৪ জন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করছেন।
আখাউড়া থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি রসুল আহমদ নিজামী বলেন, কেন্দ্রগুলোতে সুষ্ঠু এবং সুন্দরভাবে ভোটগ্রহণ হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ২৫০ জন, আনসার সদস্য ১শজন, ৪ প্লাটুন বিজিবি, ৪টি মোবাইল টিন ও র্যাব সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানায়।
উল্লেখ্য এ পৌরসভায় মোট ভোটারসংখ্যা ২৮ হাজার ৯১০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১৪ হাজার ২৩১ জন ও নারী ১৪ হাজার ৬৭৯ জন। নির্বাচনে মেয়র পদে ৪ জন, মহিলা কাউন্সিলর পদে ১০ ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৪১ জনসহ মোট ৫৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।





