হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের মাধবপুরে নিবার্চনী ও জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সংঘর্ষে পায়েল মিয়া(৩০) নামের এক যুবক নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩০ জন। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত ইউপি চেয়ারম্যান সহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। শনিবার দুপুরে এ উপজেলা বেজুড়া গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শনিবার রাত ১০ টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়। নিহত পায়েল ওই গ্রামের মাতব্বর হোসেনের পূত্র।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেজুরা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা বারেক মিয়ার সন্তানরা তাদের নামে রেকর্ডকৃত একটি জমি পিডিএল কোম্পানির প্রতিনিধি সিরাজুল ইসলাম খান ও কুহিনূর আক্তার খানম এর নিকট বিক্রি করে দখল বুঝিয়ে দেন। পরবর্তীতে জগদীশপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ খান একই গ্রামের মাহমুদ আলীর পুত্র বজলু মিয়া, বলু মিয়া, মিজান মিয়া, সাজু মিয়ার নিকট থেকে এই জমি ক্রয় করেন। শনিবার সকালে চেয়ারম্যান মাসুদ খান ও তার লোকজন নিয়ে এই জমি দখল করতে আসলে মুক্তিযোদ্ধা বারেক মিয়ার পরিবারের লোকজন বাধা দেয়। এসময় উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় স্থানীয় ইউপি সদস্য বেনু মিয়ার বাড়িসহ বেশ কয়েকটি বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর চালায় প্রতিপক্ষ। পরে মাধবপুর থানার পরিদর্শক (ওসি) মো: রকিবুল ইসলাম খান এর নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।
দুপুর ২ টা পর্যন্ত দফায় দফায় চলা এ সংঘর্ষে নারীসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত এবং এক যুবক নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে গুরুতর আহত মুর্শেদ মিয়া (৪৫), সুমা আক্তার (২৪), আং হামিদ (৩০), সফিক মিয়া (৪০), মারফতউল্লাহ (৩৫), আউস মিয়া (৪২), জসিম মিয়া (২৪), দুলাল মিয়া (২৫), শিমুল মিয়া (৩০), জাকারিয়া (২৩), শামীম মিয়া (২৭), তাহের মিয়া (৬৫), মাসুদ রানা (৪০), জালাল মিয়া (৩২), খোকন মিয়া (৪৭), আয়েদ আলী (২৬), আলমগীর (২৭), রফিক মিয়া (২৮), জসিম মিয়া (২৭), করিম মিয়া (৩০), শাহজাহান মিয়া (২৫), মিজান মিয়া (২৬), সাইফুল ইসলাম (২০), ইজাজুল (২৪), সফিক মিয়া (২৯), আশিক মিয়া (২৮), সামসুউদ্দিন (৩০) এবং সাইফুল (২৯) কে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। গুরুতর আহত পাবেল মিয়া (৩০) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দিবাগত রাতে মারা যায়।
মাধবপুর থানার পুলিশ রাতে অভিযান চালিয়ে জগদীশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ খান সহ চার জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে। সহকারী পুলিশ সুপার (মাধবপুর-চুনারুঘাট সার্কেল) নির্মলেন্দু চক্রবর্তী মৃত্যু ও চেয়ারম্যান আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন এ ঘটনায় জড়িত কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।





