শোবিজ

মায়ের সম্মাননা প্রাপ্তিতে উচ্ছ্বসিত মেয়ে

  • বিনোদন প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১ ডিসেম্বর, ২০১৯

জ্যোৎস্না বিশ্বাস স্বনামেই পরিচিত। এই দেশের যাত্রাশিল্পের যাত্রা সম্রাজ্ঞী তিনি। তার স্বামী স্বর্গীয় অমেলন্দু বিশ্বাস ছিলেন এই দেশের যাত্রাশিল্পের যাত্রা সম্রাট। ১৯৮৯ সালে অমলেন্দু বিশ্বাসকে একুশে পদকে (মরণোত্তর) ভূষিত করা হয়। আবার জ্যোৎসা বিশ্বাসকে ২০১১ সালে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। দুজনকেই যাত্রাশিল্পে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।

বরেণ্য যাত্রাশিল্পী জ্যোৎস্না বিশ্বাসকে এবার তার সারা জীবনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নাট্যদল ‘নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়’ ‘নাগরিক নাট্যসম্প্রদায় সম্মাননা’য় ভূষিত করতে যাচ্ছে। আগামী ৫ ডিসেম্বর রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ শিল্পকলা একাডেমিতে জ্যোৎস্না বিশ্বাসের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি নিজেই। দেশের একটি বড় নাট্যদল থেকে এই সম্মাননা প্রাপ্তিকে অনেক বড় অর্জন হিসেবেই দেখছেন জ্যোৎস্না বিশ্বাস ও তার সুযোগ্য উত্তরসূরি কন্যা অরুণা বিশ্বাস।

জ্যোৎস্না বিশ্বাস বলেন, ‘এর আগে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে একুশে পদক’সহ আরো বহু সংগঠন কর্তৃক আজীবন সম্মাননাসহ আরো অনেক ধরনের সম্মাননায় ভূষিত হয়েছি। তবে কোন নাট্যদল কর্তৃক সম্মাননা প্রাপ্তি এবারই প্রথম। আয়োজকদের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি এই কারণেই যে একই সঙ্গে আরো বেশ কয়েকজন কিংবদন্তি এবং প্রথিতযশা নাট্য ব্যক্তিত্বও একই সম্মাননায় ভূষিত হবেন। এটা আমার জন্য সত্যিই অনেক অনেক ভালো লাগার।’

অরুণা বিশ্বাস বলেন, ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি অঙ্গন যতদিন থাকবে ততদিন আমার বাবা মায়ের নাম থাকবে। তাদের অবদানকে এড়িয়ে যাবার কোনোই উপায় নেই। আমার বাবা-মায়ের কারণেই কিন্তু আমি কিংবা আমার ভাই, আমার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে অনেক সম্মানিত হই। এটা সত্যিই অনেক ভালো লাগার এবং গর্বেরও বটে। আমার মাকে নাগরিক নাট্যসম্প্রদায় সম্মাননায় ভূষিত করা হচ্ছে, বিষয়টি আমার জন্যও অনেক ভালো লাগার। তার মেয়ে হয়ে আমি সত্যিই অনেক উচ্ছ্বসিত, আনন্দিত।’

অরুণা বিশ্বাস জানান, তিনি তার মাকে নিয়ে এরই মধ্যে একটি তথ্যচিত্র নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন। মাকে নিয়ে তথ্যচিত্র নির্মাণের পর তিনি তার বাবা অমলেন্দু বিশ্বাসকে নিয়েও আরেকটি তথ্যচিত্র নির্মাণ করবেন। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে এই দুজন কিংবদন্তির যাত্রাশিল্পে অবদানকে জানান দিতে অরুণা বিশ্বাস এই দুটি তথ্যচিত্র নির্মাণ করতে যাচ্ছেন। তবে অরুণা বিশ্বাসের ভালো লাগত যদি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে তার বাবা-মাকে নিয়ে তথ্য চিত্র নির্মাণ করা হতো। কারণ এই দেশের যাত্রাশিল্পের অগ্রপথিক তারা দুজন। তাদের নিয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কাজও হওয়াই উচিত বলে মনে করেন তিনি। যাত্রাশিল্পে জ্যোৎস্না বিশ্বাস বিগত ৪৫ বছর ধরে অভিনয় করছেন। নিজে নির্দেশনাও দেন। সর্বশেষ প্রায় দশ মাস আগে একটি যাত্রা পালায় তিনি অভিনয় করেন। এদিকে অরুণা বিশ্বাস অভিনয়ে নিয়মিত থাকার পাশাপাশি সেন্সর বোর্ডের মেম্বার হিসেবেও কাজ করছেন। এরই মধ্যে জসীমের নির্দেশনায় নতুন একটি সিনেমায়ও অভিনয় করছেন তিনি। এতে তার বিপরীতে আছেন শতাব্দী ওয়াদুদ।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads