রোহিঙ্গাদের বর্জ্যে উখিয়ায় চিংড়ি উৎপাদনে বিপর্যয়

ছবি: বাংলাদেশের খবর

জাতীয়

রোহিঙ্গাদের বর্জ্যে উখিয়ায় চিংড়ি উৎপাদনে বিপর্যয়

  • উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ৫ অক্টোবর, ২০১৯

দেশের সাদা সোনা নামে খ্যাত রপ্তানিযোগ্য চিংড়ি উৎপাদন মারাত্বকভাবে ব্যহত হচ্ছে। চিংড়ি উৎপাদন যোগ্য  এলাকা উখিয়ার পালংখালীর বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা তাদের ব্যবহৃত বর্জ্যের কারণে ঘেরের পানি দূষিত হয়ে পড়ছে। যার ফলে হোয়াইট স্পট নামের এক প্রকার রোগে আক্রান্ত বাগদা চিংড়ি গ্রেডে উন্নীত না হওয়ার আগেই মারা পড়ছে। অবশ্য মৎস্য কর্মকর্তা বলছেন, চিংড়ি মাছ রক্ষায় খামারীদের সব ধরনের প্রশিক্ষণ ও উপকরন দেওয়া হয়েছে। তবে রোহিঙ্গা যাতে মৎস খামারে বর্জ্য অপসারণ করতে না পারে সে ব্যপারে প্রশাসনকে উদ্যোগ নিতে হবে।

পালংখালী আব্দুল লতিফ ওয়াকফ স্ট্রেট ঘুরে স্টেটের সদস্য সচিব লতিফ আনোয়ার চৌধুরীর সাথে মুঠোফোনে আলাপ করে চিংড়ি ঘেরের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওয়াকফ স্টেটের আওতায় প্রায় ৯৮৭.৪০ একর জমি রয়েছে। সেখানে প্রতি মৌসুমে ৫০০ কোটি টাকার চিংড়ি উৎপাদন হয়ে থাকে। এ চিংড়ি প্রকল্পের উৎপাদিত সামুদ্রিক মাছ, ধান, চিংড়ি বিক্রয়ের মাধ্যমে জীবন জীবিকা নির্বাহ করছে প্রায় ৪ শতাধিক পরিবার। তিনি বলেন, দূবৃত্তায়ন ও নানাবিধ নেতিবাচক আচার আচরণের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের কারণে চিংড়ি উৎপাদন ব্যহত হচ্ছেল রোহিঙ্গারা চিংড়ি ঘেরে বিভিন্ন অপকর্মসহ পয়ঃনিষ্কাশন ও বর্জ্য অপসারণ করায় উৎপাদিত চিংড়ির উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। যা পরে হোয়াইট স্পট রোগ ধারন করে মাছের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে।

বালুখালী চিংড়ি চাষী আব্দুল গফুর জানান, তারা পারিবারিকভাবে পেশাদার চিংড়ি চাষী। ২০১৭ সালে ২৫শে সেপ্টেম্বর পালংখালী এলাকায় ব্যাপকভাবে রোহিঙ্গা আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে এলাকার চিংড়ি চাষের ধস নেমেছে। আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে একই এলাকার চিংড়ি চাষের সাথে জড়িত সপৃক্ত পরিবারগুলো।

একই এলাকার চিংড়ি চাষী শামসুল আলম জানায়, ব্যক্তিগতভাবে সে প্রতিবছর ১০ একর চিংড়ি ঘেরে চিংড়ি মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ উৎপাদন করে থাকেন রোহিঙ্গারা আসার পর থেকে ঐ চিংড়ি ঘেরে তাদের ব্যবহৃত যাবতীয় বর্জ্য অপসারন করার কারনে চিংড়ি ঘেরের পানি দুষিত হয়ে উপযুপরি ২ মৌসুমে তার প্রায় ১০লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এভাবে পশ্চিম বালুখালী চিংড়ি খামারী ফরিদুল আলম জানান, রোহিঙ্গারা চিংড়ি খামার দখল করে সেখানে  পয়ঃনিষ্কাষনসহ অপব্যবহারের কারনে মাছ চাষে বিপুল অর্থ ব্যায় করেও সফলকাম হতে পারেননি। পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান চিংড়ি চাষের মারাত্বক বিপর্যয়ের সত্যতা স্বীকার করেছেন।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ মো. এরশাদ বিন শাহীন জানান, রোহিঙ্গাদের কারণে রপ্তানিযোগ্য চিংড়ি উৎপাদন ব্যহত হলেও স্থানীয় চাষীরা যাতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ না হয় সে ব্যাপারে চিংড়ি ঘেরে বজ্যঅপসারনের ক্ষেত্রে রোহিঙ্গাদের প্রতি বিধি নিষেধ আরোপের জন্য উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান জানান, দেশের উৎপাদিত আমিষ জাতীয় পণ্য রপ্তানি করে প্রবৃদ্ধি অর্জনে সক্ষম চিংড়ি উৎপাদন যাতে ব্যহত না হয় সে ব্যাপারে রোহিঙ্গাদের সর্তক করে দেওয়ার জন্য ক্যাম্প ইনচার্জসহ সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।  

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads