লালমনিরহাটে মহাসড়কে লাশ রেখে অবরোধ, মন্ত্রীর আশ্বাসে প্রত্যাহার

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

সারা দেশ

লালমনিরহাটে মহাসড়কে লাশ রেখে অবরোধ, মন্ত্রীর আশ্বাসে প্রত্যাহার

  • লালমনিরহাট প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২৭ অক্টোবর, ২০২০

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আজ মঙ্গলবার সকালে মহাসড়কে লাশের কফিন রেখে সড়ক অবরোধ করে স্থানীয় গ্রামবাসী। সকাল ১০টা থেকে ৩ ঘণ্টাব্যাপী অবরোধ থাকায় ঢাকা-বুড়িমারী মহাসড়কে পণ্যবাহি ট্রাকসহ কয়েক শত যানবহন আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে সমাজ কল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ বিচারের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেন গ্রামবাসী।

অবরোধকারী বিক্ষুদ্ধ লোকজন জানান, উপজেলার কাশিরাম গ্রামের ফজলু মাস্টারের মেয়ে স্থানীয় উত্তর বাংলা কলেজের প্রভাষক এস. তাবাসুম রায়হান মুসতাযীর তামান্না সামান্য বিষয় নিয়ে একের পর এক মামলা করে গ্রামবাসীকে হয়রানী করে আসছে। গ্রামবাসী থানায় অভিযোগ দিলেও পুলিশ তা আমলে নেয়নি। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ তামান্নার দায়ের করা একটি মামলায় ওই গ্রামের দিনমজুর খলিল মিয়া গত ২২ তারিখে আদালতে যাওয়ার পথে অটোরিকশার ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুইদিন চিকিৎসাধীন থেকে সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে তিনি মারা যান। নিহত দিনমজুর খলিল মিয়া (৩১) কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার ইউনিয়নের কাশিরাম গ্রামের আবদার মুন্সির ছেলে।

অভিযোগ উঠেছে, ওই শ্রমিক খলিলকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে। আর এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ওই প্রভাষক তামান্না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাষক এস তাবাসসুম রায়হান মুস্তাযীর তামন্নাকে এসব কাজে সহযোগিতা করে আসছেন কালীগঞ্জ থানার ইনচার্জ (ওসি) আরজু মো. সাজ্জাদ হোসেন।

এসব ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকালে কালীগঞ্জে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ এমপির বাসার সামনে খলিলের লাশ নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন কয়েক শত বিক্ষুপ্তজনতা।

অবরোধ থেকে দাবী তোলা হয় ওই কলেজ প্রভাষক এস তাবাসসুম রায়হান মুস্তাযীর তামন্নাকে গ্রেপ্তার কালীগঞ্জ থানার ওসি আরজু মো. সাজ্জাদ হোসেনকে প্রত্যাহার ও স্থানীয়দের বিরুদ্ধে তামান্নার দায়ের করা সকল মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।

অবরোধস্থলে প্রথমে এসিল্যান্ড জাহাঙ্গীর আলম পরে ইউএনও রবিউল হাসান আসেন। তারা অবরোধ তুলতে  ব্যর্থ হলে সব শেষ ১২.৪৫ মিনিটে অবরোধস্থলে আসেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ। এ সময় মন্ত্রী প্রায় ৪৫ মিনিট অবরোধস্থলে অবস্থান করেন। প্রথমে অবরোধকারীরা মন্ত্রীকে ফিরে দিলেও পরে দুপুর ১.৩০ মিনিটে মন্ত্রীর আশ্বাস অবরোধ তুলে নেয় বিক্ষুপ্ত জনতা।

এ বিষয়ে ঘটনস্থলে উপস্থিত থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতিকুল হক বলেন,‘ আমরা অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ 

কালীগঞ্জ উপজেলা ইউএনও রবিউল হাসান বলেন, পুরো বিষয়টি তদন্তকরে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads