শটি দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের এক গুরুত্বপূর্ণ ভেষজ উদ্ভিদ। এর বিভিন্ন ওষুধী গুণ প্রাচীনকাল থেকেই স্বীকৃত। গ্রাম বাংলার পথে-প্রান্তরে অযত্নে অবহেলায় জন্মায় শটি। কোথাও কোথাও বা সীমিত পরিসরে চাষ হয়। আধুনিক চিকিৎসার তোরে হারিয়ে যেতে বসা এই শটি হয়ে উঠেছে বরিশালের প্রাত্যন্ত দক্ষিণ সাকোকাঠি গ্রামের কিছু মানুষের আয়ের অন্যতম উৎস। শটির পালো তৈরি করে সাবলম্বি হচ্ছে জেলে পল্লীর নারীরা। এজন্য শটির পালো তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলে পল্লীর নারীরা।
গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের দক্ষিন সাকোকাঠি গ্রামের কিছু মানুষের আয়ের অন্যতম উৎস। গৌরনদী উপজেলার দক্ষিণ সাকোকাঠী গ্রামের জেলেপল্লীর নারীরা শটিগাছ থেকে তৈরি করেন এক প্রাকিতিক খাবার। স্থানীয়ভাবে এটি শটির পালো নামে পরিচিত। প্রবীনরা বলেন, লোকজ চিকিৎসায় শটির পালোর ব্যবহার এককালে ছিলো গুরুত্বপূর্ণ। সময়ের বিবর্তনে এটি এখন বিলুপ্ত প্রায়। বিভিন্ন প্রতিকূলতায় মাঝে এলাকায় পালো শিল্পকে টিকিয়ে রেখেছেন জেলে পল্লীর নারীরা। বছরে প্রায় ৭ থেকে ৮ শত কেজি পালো উৎপাদন করেন তারা। প্রকৃতিক উপাদানে প্রতি মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়ায় সামপ্রতিক কালে আবার এর চাহিদা বাড়ছে বলেই জানিয়েছেন এর উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
এলাকায় এক ধরনের কুটির শিল্প হিসেবে পালো তৈরির পথ দেখান জেলে পল্লীর বাসিন্দা মিনতি রানী দাস। তার বয়স এখন (৮০)। গ্রামের মধ্যে রানী প্রথম বেশ কয়েক বছর আগে পালো তৈরি করে বাজারে বিক্রি করেন। তার হাত ধরেই এক এক করে গ্রামের ৫৫ জন নারী এ কাজে যুক্ত হয়েছেন। তারা বাড়িতে বসে, সংসারের কাজের ফাঁকে শটির পালো তৈরি করেন। তাদের এই উদ্যোগ বারতি আয় করে সংসারে কিছুটা সচ্ছলতা আনছে।
শটি গাছের কন্দ থেকে তৈরি হয় পালো। বাংলাদেশে এটি এলাকা ভেদে শটি,হডি,সাদা হলুদ সহ বিভিন্ন নামে পরিচিত। দক্ষিন সাকোকাঠি গ্রামের কনক রানী দাস (৫৩),অঞ্জলী রানী দাস (৫৮), জয়ন্তী রানী দাস (৩৬) বলেন,অগ্রহায়ন পৌষ মাসে গ্রামের আনাচে-কানাচে জমির পাশে ঘুরে শটির কন্দ সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। কন্দ ভালো ভাবে ধুয়ে পরিস্কার করে ছিদ্রযুক্ত টিনের টুকরায় ঘষে কুচি কুচি করা হয়। এর পরে তা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয় ১২ ঘন্টা। উপর থেকে ময়লাসহ পানি ফেলে দিলে পালো নিচে ময়দার মত জমা হয়। একই ভাবে পাচ থেকে ছয় বার ধুয়ে তা রোদে শুকিয়ে নিতে হয়। ১৫ থেকে ২০ কেজি কাচ শটির কন্দে এক কেজি খাওয়ার উপযোগী পালো তৈরি হয়। পালো সাভাবিক আবহাওয়ায় দুই বছরেও নষ্ট হয় না। এই গ্রামে উৎপাদিত পালো প্রতি কেজি ৬-৭ শত টাকায় বিক্রি হয়।
পালোর কারিগর মিনতী রানী দাস বলেন, ছোট বেলায় মায়ের কাছ থেকে পালো বানান শিখেছি। পালো সব বয়সের মানুষের জন্য একটি ভালো খাবার। গ্রামের ঝি-বউদেও পালো বানানো শিখিয়েছি। এখন ওরা নিজেদের চাহিদা মিটিয়েও বাজারে বিক্রি কওে বারতি কিছু টাকা আয় করছে। আয়ুরবেদিক চিকিৎসাশাস্ত্রে বলা হয়েছে শটি প্রদাহ, ব্যথা কিছু চর্ম রোগসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা সারাতে উপকারী।
গৌরনদী উপজেলা স্বা¯হ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সায়্যেদ মুহাম্মাদ আমরুল্লাহ বলেন, শটির পালো একটি ভালো প্রাকৃতিক খাবার। মানবদেহের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে এর ব্যবহার প্রচীন কাল থেকে হয়ে আসছে। তবে এটি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবন করতে হবে।





