শিমুল ফুলে রক্তিম সাজে সেজেছে প্রকৃতি

সংগৃহীত ছবি

সারা দেশ

শিমুল ফুলে রক্তিম সাজে সেজেছে প্রকৃতি

  • আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

বসন্তের আগমনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রকৃতি সেজেছে এক রঙ্গিন সাজে। গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে নয়নাভিরাম শিমুল ফুল। সব কিছুর মধ্যে ও প্রকৃতিকে যেন সাজিয়েছে শিমুলে ফুলের শোভায় এক নতুন রূপে। বাতাসে দোল খাচ্ছে শিমুল ফুলের রক্তিম আভায় । গাছের ডালে ফুটে থাকা শিমুল ফুলে মানুষের মনকে যেন রাঙিয়ে তুলেছে।

প্রকৃতির এমন অপরূপ সৌন্দর্য মনে করিয়ে দেয় শাহ আব্দুল করিমের সেই গানের লাইনটি ”বসন্ত বাতাসে বন্ধুর বাড়ির ফুলের গন্ধ আমার বাড়ি আসে,সেই গো বসন্ত বাতাসে।

শিমুল গাছে বসন্তের শুরুতেই ফুল ফোটে। চৈত্র মাসের শেষের দিকে ফল পুষ্ট হয়। বৈশাখ মাসের দিকে ফলগুলো পেকে শুকিয়ে গিয়ে বাতাসে আপনা আপনিই ফল ফেটে প্রাকৃতিকভাবে তুলার সঙ্গে উড়ে উড়ে দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে পড়া বীজ থেকেই এর জন্ম হয়। প্রাকৃতিকভাবেই শিমুল গাছ বেড়ে উঠছে। তাছাড়া বালিশ, লেপ ও তোষক তৈরিতে শিমুল তুলার জুড়ি নেই। শিমুল গাছ কেবল সৌন্দর্যই বিলায় না এই গাছে রয়েছে নানা উপকারিতা এবং অর্থনৈতিক ভাবে ও বেশ গুরুত্ব বহন করছে। প্রাকৃতিকভাবে তুলা আহরণের অন্যতম অবলম্বন হচ্ছে শিমুল গাছ। এ গাছের সব অংশেরই রয়েছে ভেষজগুণ। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকরা এখনো নানা রোগের চিকিৎসায় এ গাছের বিভিন্ন অংশ ব্যবহার করে। শিমুল গাছের বৈজ্ঞানিক নাম ‘বোমবাক্স সাইবা লিন’। বীজ ও কান্ডের মাধ্যমে এর বংশ বিস্তার হয়।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে শিমুল ফুল। পাশাপাশি বসন্তের সঙ্গে সঙ্গেই প্রকৃতি যেন নিজ রূপে সেজে উঠেছে । রাস্তার দু’পাশে, পুকুরপাড়ে শিমুল গাছে ফুল বাতাশে দোলা খাওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। পথচারিসহ দর্শনার্থীদের মন কাড়ছে শিমুল ফুল । তাছাড়া গাছে গাছে আসতে শুরু করেছে নতুন পাতা, স্নিগ্ধ সবুজ কচি পাতার ধীর গতিময় বাতাস জানান দিচ্ছে নতুন লগ্নের।

ফাল্গুনের আগমনে পলাশ, শিমুল গাছে লেগেছে আগুনে খেলা। লাল ফুলের কারণে পুরো এলাকায় হয়ে উঠেছে রক্তিম আভা। পৌর শহরের তারাগন এলাকার মো: রমজান মিয়া বলেন, প্রতি বছরই এই সময় উপজেলার বিভিন্ন রাস্তা ঘাটের দু’পাশে শিমুল গাছে ফুল দেখা যায়। যা দেখতে খুবই সুন্দর লাগে।

পৌর শহরের দেবগ্রাম এলাকা থেকে ঘুরতে আসা মো. মনিরুল ইসলাম ও সাব্বির মিয়া বলেন, শিমুল ফুলের সৌন্দর্য সত্যিই মুগ্ধ করবে যে কাউকে। কাজ থাকায় সময় সুযোগ হয়ে উঠেনা ঘুরতে। অনেক দিন ধরে শিমুল ফুল দেখতে পরিকল্পনা ছিল। তাই সুযোগ হওয়ায় পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছি। শিমুল ফুল দেখতে পেয়ে তাদের খুবই ভালো লাগছে বলে জানায়।

মো: মোবারক মিয়া বলেন, এ উপজেলার অনেক রাস্তার দুই পাশে আবার বাড়ি সংলগ্ন পুকুর পাড়ে সারি সারি রক্ত রাঙা শিমুল ফুল দেখে সত্যিই খুবই ভালো লাগছে।

উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের কাইজবাড়ি এলাকার মো. ছনু মিয়া জানায়, তার বাড়ি সংলগ্ন রাস্তার পাশে ১ টি শিমুল গাছ রয়েছে। শিমুল গাছে এবার যেন অনেক আগেই ফুল ফুটেছে। এই গাছ থেকে ৩ হাজার টাকার তুলা বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। মোগড়া এলাকার মো: এরশাদ মিয়া বলেন, এক সময় রাস্তাঘাটের দুই পাশে পুকুর পাড়সহ গ্রামের আনাচে কানাচে শিমুল গাছ ছিল। শিমুল গাছ আর সেই ভাবে চোখে পড়ে না কারণ রাস্তা প্রশস্ত করতে বাড়ি ঘর তৈরী এবং জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার করতে অনেকেই গাছগুলো কেটে প্রকৃতিকে নষ্ট করছে।

মনিয়ন্দ এলাকার মো: ধন মিয়া বলেন তার বাড়ি সংলগ্ন পুকুর পাড়ে ৩ টি গাছ রয়েছে। এরমধ্যে দুটি গাছে শিমুল ফুল এসেছে। কিছু দিনের মধ্যে বাকি একটি গাছে ফুল আসবে। তবে রাস্তা দিয়ে লোকজন আসা যাওয়ার পথে শিমুল গাছ যেন নজর কাড়ছে। তিনি আশা করছেন এবার ৫ হাজার টাকার তুলা বিক্রি হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম বলেন, শিমুল ফুল না ফুটলে যেন বসন্ত আসে না। বাংলাদেশের ভৌগলিক পরিবেশের সঙ্গে সংস্কৃতি চর্চার একটি যোগ সূত্র রয়েছে। ঠিক সেই ভাবেই বসন্ত এলেই চলে আসে শিমুল ফুল। আমাদের ঋতু বৈচিত্রের এসব অনুসঙ্গকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব ও আমাদের।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads