সড়ক সংস্কার কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং সরকারি শ্রমিক দিয়ে ঠিকাদারের কাজ করানোর অভিযোগ উঠেছে জেলার আদিতমারী উপজেলা প্রকৌশলী সোহেল রানার বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল দপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে আদিতমারী উপজেলায় গ্রামীণ সড়ক সংস্কার করতে মেইনটেন্যান্স প্রজেক্টের আওতায় তিন কোটি ৩৪ লাখ ২১ হাজার ৪২৪ টাকার ১৩টি প্রকল্প নেওয়া হয়। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করতে দরপত্র আহ্বান করে এলজিইডি। ১৩টি প্রকল্পের মধ্যে উপজেলা পরিষদ থেকে হ্যালিপ্যাড হয়ে মহিষখোচা সড়কের সংস্কারের বিপরীতে সরকারি বরাদ্দ ধরা হয় ২৮ লাখ ২৩ হাজার ৯৩২ টাকা। কিন্তু সড়কটির কাজ সম্পন্ন করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রেহেদুজ্জামানের সঙ্গে বরাদ্দের চেয়ে এক লাখ ৪৮ হাজার ৬২৯ টাকা অতিরিক্ত অর্থে চুক্তি করে এলজিইডি। অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ দিলেও উপজেলা পরিষদ থেকে হ্যালিপ্যাড হয়ে মহিষখোচা সড়কের সংস্কার কাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগের অন্ত নেই। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ও অতিরিক্ত তাপে গলানো নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহার করায় কাজ শেষ না হতেই উঠে যাচ্ছে পাথর। ভালোভাবে রোলার না করায় সড়কটি রয়ে গেছে উঁচু-নিচুই।
এদিকে ওই প্রকল্পে সড়কটির দুই ধারে তিন ফিট করে ছয় ফিট মাটি ভরাটে প্রায় অর্ধলক্ষাধিক টাকা বরাদ্দ থাকলেও তা না করেই গত সপ্তাহে কাজ সমাপ্ত দেখিয়ে চূড়ান্ত বিলের আবেদন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সেই মাটি ভরাটের কাজটি সম্পন্ন করতে আদিতমারী উপজেলা প্রকৌশলী সোহেল রানার নির্দেশে কাজ করছেন পল্লী কর্মসংস্থান ও সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির নারী শ্রমিকরা। গত ১৬ দিন ধরে এসব শ্রমিক দিয়ে সড়কটিতে মাটি ভরাটের কাজ করানো হচ্ছে। এছাড়া আরইআরএমপির শ্রমিক পারুল বেগমকে সড়কের মাটির কাজের পরিবর্তে উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে রান্নার কাজ করানো হচ্ছে বলেও শ্রমিকদের অভিযোগ।
একই অভিযোগ মেনটেন্যান্স প্রজেক্টের ভাদাই ইউনিয়নের মান্নানের মিল থেকে বুড়িরদিঘী সড়ক সংস্কার প্রকল্পে সরকারি বরাদ্দ ৫৩ লাখ ৫৮ হাজার ২২ টাকা ধরা হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এসএস ব্রাদার্স-এর সঙ্গে কাজটির চুক্তি করা হয় ৫৬ লাখ ৪০ হাজার ২৪ টাকার। অতিরিক্ত বরাদ্দের সেই সড়কেও প্যালাসাইডিং ঢালাই শুরু হলে নিম্নমানের কাজের কারণে স্থানীয়রা কাজ বন্ধ করতে প্রকৌশলীর কাছে মৌখিক অভিযোগ করেন। নামে মাত্র রড দিয়ে প্যালাসাইডিংয়ের পিলার লাগানো হয়েছে। নিম্নমানের খোয়া ও ঢালাইয়ে ভাইবেটর ব্যবহার না করায় ঢালাইয়ের ভেতরে ফাঁকা রয়েছে। যাতে সামান্যতেই ভেঙে যাওয়ার শঙ্কায় স্থানীয়দের চাপে গত ২ ফেব্রুয়ারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর।
আরইআরএমপি-৩ এর ভাদাই ইউনিয়নের শ্রমিক সর্দার লাভলী বেগম জানান, আমার দলে ১০ জন শ্রমিকের একজন প্রকৌশলীর কার্যালয়ে রান্নার কাজ করেন। অন্য নয়জন অন্য সড়কে কাজ করলেও গত ১৬ দিন ধরে উপজেলা প্রকৌশলী সোহেল রানার নির্দেশে নতুন এ সড়কে কাজ করছি। নিয়ম-অনিয়ম আমরা জানি না।
উপজেলা প্রকৌশলী সোহেল রানা জানান, প্রকল্পটির কাজ সদ্য সম্পন্ন করে ঠিকাদার মাটি ফেলে চলে গেছেন। সেটা সমান করে দিতে আরইআরএমপির শ্রমিকদের লাগানো হয়েছে। আর কার্যালয়ে রান্নার কাজে যে শ্রমিক রয়েছেন, তা দীর্ঘ ১০ বছর ধরে চলছে। আগের প্রকৌশলীদের করা নিয়মে চলছে। প্যালাসাইডিং কাজে নিম্নমানের অভিযোগে একটি প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
লালমনিরহাট এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফ আলী খান জানান, আরইআরএমপি-৩ প্রকল্পে যারা কাজ করেন তারা সরকারি শ্রমিক। এদের দিয়ে ঠিকাদারি বা ব্যক্তিগত কাজ করানো যাবে না। অভিযোগের তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।





