এস.এম নুরুজ্জামান, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি :
সরকারি রাস্তার মাটি কাটার অপরাধের বিচার করে বিপাকে পড়েছে ইউপি চেয়ারম্যান।
জানাগেছে, মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার তিল্লী ইউনিয়ন পরিষদে এমপি কোঠার বিশেষ বরাদ্দের একটি রাস্তা রাতের আধারে কে বা কারা কেটে ফেলে জনগণের চলাচল ব্যাহত করে। এ ঘটনা জানতে পেরে ইউপি চেয়ারম্যান শরীফুল ইসলাম ধলা গত দশ এপ্রিল ইউনিয়ন পরিষদে একটি বিচার বসিয়ে বরকত আলী ও হযরত আলীকে দোষী সাব্যস্ত করে রাস্তা মেরামত করে দেওয়ার মুচলেকা শর্তে ছেড়ে দেয় হয়। বিচারের পর উল্টো প্রশাসনের কাছে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা।
সরজমিনে গিয়ে জানা যায় গত ১৮/১৯ অর্থ বছরে এমপি কোঠার বিশেষ বরাদ্দের একটি সাড়ে পাঁচ লক্ষ টাকা ব্যয়ে চরতিল্লী বাজার হতে আইজুদ্দিন মাদবরের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ করা হয়। রাস্তাটি নির্মাণ করে তিল্লী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোরসালিন বাবু। নির্মিত রাস্তাটি সম্প্রসারণ করে কবরস্থান পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেন বর্তমান চেয়ারম্যান। কিন্ত পরবর্তীতে বর্তমান চেয়ারম্যান আসায় প্রকল্পটির কাজ থেমে যায় নানা জটিলতায়। নতুন রাস্তা নির্মাণ করতে ঘর বাড়ি স্থাপনা ভাঙ্গা সহ নানা প্রতিবন্ধকতা থাকায় উক্ত প্রকল্পের কাজ থেমে যায়। এখানে বসবাসরত জনসাধারণ একে অপরের উঠান পাড়ি দিয়ে যাতায়াত করে। কারও সঙ্গে বিরোধ হলে তার সীমানা বন্ধ করে দেয়। চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
নির্মিত রাস্তার শেষ প্রান্তে পশ্চিম পার্শে হাসান আলী গত এক বছর পূর্বে তার সীমানায় টিন দিয়ে বেড়া দিয়ে চলাচলের পথ আটকে দেয়। মুলত হাসান আলী তার জায়গা বেড়া দিয়ে আটকের পর থেকেই বিরোধের সৃষ্টি।
সম্প্রতি হাসান আলী উক্ত রাস্তার পাশে একটা জমিতে মাটি দিয়ে ভরাটের উদ্যোগ নেয়। কিছু মাটি দূর থেকে গাড়ি করে এনে ফেলেন। হাসান আলী সরকারী রাস্তা ব্যবহার করে মাটি ফেলবেন আর অন্যদের চলাচলের পথ বন্ধ করে দেবেন এই ঈর্ষা থেকে হাসান আলীর চাচা বরকত আলী, হাসানের প্রতিবেশী হযরত আলী সহ কয়েকজন রাতের আধারে সরকারি রাস্তাটি কেটে মাটি সরিয়ে ফেলেন।
উল্লেখ্য উক্ত রাস্তাটি হাসান আলীর চাচা বরকতের জমির উপর দিয়েই নির্মিত হয়েছে। সরকারী রাস্তা নিজের জমির উপর দিয়ে গেলেও যে কাটা যায় না এ ব্যাপারে তারা অজ্ঞ।
ইউপি চেয়ারম্যান বিষয়টি জানার পর রহমত, হযরত সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে মেম্বার আতোয়ার রহমানের মাধ্যমে নির্দেশ দেন যাহারা এ রাস্তা কেটেছে তারা যেন অতি দ্রুত এ রাস্তা মেরামত করে দেন। নতুবা আইনের আশ্রয় গ্রহণ করা হবে। অজ্ঞ লোকেরা বিষয়টিকে কর্ণপাত না করায় গত দশ এপ্রিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কক্ষে চৌকিদার তমছের হোসেন, ইজ্জত আলী, শুকুর আলী মাধ্যমে দোষীদের ডেকে নিয়ে বিচারে বসেন। উক্ত বিচারে অন্যান্য ইউপি সদস্য সহ গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গের উপস্থিতিতে বরকত ও হযরত আলী স্বীকার করেন তারা রাস্তাটি কেটেছেন। তাদের সঙ্গে আরও লোক ছিল। কিন্তু অন্য কেউ এ দোষ অস্বীকার করে। চেয়ারম্যান দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চাইলে পরিবারের লোকজন চেয়ারম্যানের কাছে ক্ষমা চেয়ে রাস্তাটি মেরামত করে দেবেন মর্মে একটি মুচলেকা দিয়ে আসেন।
বিচারে উপস্থিত বিচারে উপস্থিত সাত নং ওয়ার্ডের সদস্য সিদ্দিকুর রহমান, পাচ নং ওয়ার্ডের আলহাজ্ব, মহিলা ইউপি সদস্য নুরজাহান, ব্যাবসায়ী মিজানুর রহমান, সাইফুল ইসলাম বাদল, ডাঃ জসীম উদ্দিন, ছাত্রলীগ নেতা সোহেল মোল্লা সবাই বলেন বিচারে মারধর কিংবা অপ্রীতিকর কিছু ঘটে নি।
আজিম উদ্দিনের ছেলে আঃ আজিজ তমছেরের ছেলে লাভলু মিয়া বলেন আমরা শুনেছি। কিন্তু সত্য মিথ্যা জানিনা।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, কবরস্থান পর্যন্ত প্রস্তাবিত রাস্তার পশ্চিম পাশে হাসান আলী, আবুল হোসেন, লাবলু, হুরমত আলী, কামরুল, নুরু মিয়া, সবুরের বাড়ি। পূর্ব পাশে আজিম উদ্দিন, সহিমুদ্দিন, আজাহার, দেলোয়ার হোসেন, আখের আলী, শহীদ কাজী, সুমন কাজী। তাদের কিছু না স্থাপনা ভাঙ্গা কিংবা অন্যত্র সরিয়ে দেয়া আর কিছু গাছপালা কর্তন করতে হবে। উপরোক্ত ব্যক্তিদের জায়গার উপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করার কথা ছিল। এদের সাথে দশ পনের ঘরের বাসিন্দারা হাসান আলীর দেয়া বেড়ার ফাঁক দিয়ে চলাচল করে। তাদের চলাচলের অসুবিধার কারনে আক্রোশে রাস্তা কাটার ঘটনা ঘটেছে। তবে তারা ইউনিয়ন পরিষদে বিচারের নামে মারধরের ঘটনার কথা কেউ জানেনি, শুনেছে বলে জানান।
উক্ত বিচারের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ছবি ভাইরাল হয়। হযরত আলীর পেছনে হাত বাধা ছবি। হাত বাধা ছবিকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যানের নামে বিভিন্ন মিথ্যা, অপ্রীতি ও মানহানিকর সংবাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর হযরত আলী প্রশাসনে বিভিন্ন দফতরে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করে।
এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান শরীফুল ইসলাম ধলা জানান আমার বিরুদ্ধে একটি কুচক্রী মহল মিথ্যা ও সাজানো ছবি ব্যবহার করে অপপ্রচার চালাচ্ছে। হযরত আলীকে দিয়ে আমাকে হেনস্থা করার উদ্দেশ্যে এমন একটি নাটক সাজিয়েছে। বিচারে এমন কোন ঘটনা ঘটেনি। আর যে ছবিটি প্রচার করেছে সেই ছবিটি সুন্দর করে ইডিট করে সাজানো হয়েছে। বিচার পর কোন মহল এটি করে থাকতে পারে। হযরত আলী বলেন গ্রাম পুলিশ আমাকে পিছমোড়া করে বেধে রোদের মধ্যে দাঁড়া করে রেখেছেন।
অথচ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পিছমোড়া করে বেধে মারধরের মত ঘটনা ঘটেছে বলে প্রচার করা হচ্ছে। চেয়ারম্যান শরীফুল ইসলাম ধলা এ ব্যাপারে আইনের আশ্রয় গ্রহণ করবেন বলে জানান এবং বিরোধপূর্ণ জায়গায় কবরস্থান পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ করার চেষ্টা ও ওখানে বসবাসরত সমস্ত বাসিন্দাদের সহযোগিতা কামনা করছেন।





