সারা দেশ

সাইবার সংক্রান্ত বিষয় তদবির করতে এসে গ্রেফতার হলেন নাটোর পৌর কাউন্সিলর

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত ২০ ডিসেম্বর, ২০২৩

নাটোর প্রতিনিধি:

সাইবার সংক্রান্ত বিষয় ভিকটিমের সাথে তদবির করতে  এসে নাটোর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কক্ষে চেয়ারে বসে চা পান করছিলেন, নাটোর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও স্থাণীয় আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জাহিদুর রহমান জাহিদ।

হঠাৎ ওসির মুঠোফোনে বার্তা আসে, তাঁর সামনে বসা ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ২০১৪ সালের একটি মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে। পরে চা পান শেষে ওসির নির্দেশে তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠান।

জাহিদুর রহমান  নাটোর ২ (সদর-নলডাঙ্গা) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ হিসেবেও পরিচিত। আগে তিনি নাটের পৌর বিএনপির ১নং যুগ্ন আহবায়ক ছিলেন এবং সাবেক ভূমি উপমন্ত্রী, বিএনপির নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তখন তিনি বিএনপি করতেন। দল ছাড়লেও মামলা থেকে ছাড় পননি সে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নাটোর পৌরসভার এক বাসিন্দা (নারী) সাইবার সংক্রান্ত বিষয়ে ভিকটিমের সাথে গত মঙ্গলবার দুপুরে নাটোর থানায় যান কাউন্সিলর জাহিদুর রহমান জাহিদ। ওসির সামনের চেয়ারে বসে ছিলেন। তাঁকে চা দিয়ে আপ্যায়নও করা হয়। হঠাৎ ওসি জানতে পারেন, সামনে বসা ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের একটি মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে। তিনি পরোয়ানার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর একজন উপপরিদর্শক তাঁকে গ্রেপ্তার করেন। এ সময় তাঁর বিরুদ্ধে নাটোর দায়রা আদালতের বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের একটি বিচারাধীন মামলার পরোয়ানা দেখানো হয়।

এব্যাপারে নাটের জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী মালেক শেখ বলেন, জাহিদুর ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য। তিনি পুরোনো একটি মামলার আসামি ছিলেন। ওই মামলায় জামিনেও ছিলেন। কিন্তু হাজিরা না দেওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে পরোয়ানা হয়েছিল। বিষয়টি তিনি জানতেন না। জনপ্রতিনিধি হিসেবে একজনের একটি মামলার ব্যাপারে কথা বলতে থানায় গেলে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। দায়রা জজ আদালত বন্ধ থাকায় তাঁর জামিন করানো যায়নি।

নাটোর থানার (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, তিনি এ থানায় নতুন এসেছেন। তাই কাউকে তেমন একটা চিনেন না। গতকাল দুপুরে একজন কাউন্সিলর এসেছিলেন আমার কাছে। পরে জানতে পারি, তাঁর বিরুদ্ধে দায়রা জজ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে। কর্তব্য পালনের জন্য তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।তিনি বলেন, পরে খোঁজ নিয়ে শুনেছেন, ২০১৪ সালে ওই মামলা যখন হয়, তখন তিনি বিএনপি করতেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads