চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার বাসিন্দা বিউটি আক্তার, আবুল হোসেন, সুফিয়া, জুলেখা ও ফাতেমা বেগম। এরা সবাই থাকতেন অন্যের বাড়িতে আশ্রয়ে। কেউ আত্মীয়ের বাড়ীতে। আবার কেউ বাসা ভাড়া করে। মৌলিক অধিকার বঞ্চিত এসব মানুষগুলো এখন নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন। পেয়েছেন মাথা গোজার ঠাঁই। দুই শতক জমিসহ ঘর পেয়ে তাদের জীবন ধারায় পরিবর্তণ শুরু হয়েছে। প্রত্যেকটি পরিবারের সদস্যের চোখে মুখে আনন্দের ছোঁয়া। অভাব যাদের নিত্যদিনের সঙ্গী, নিজ অর্থে বাড়ী করার প্রশ্নেই আসে না। কখনো স্বপ্নেও ভাবেননি নিজেদের বাড়ী হবে। তবে তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প ভূমিহীন ও গৃহহীন প্রকল্পের আওতায় তারা ঘর পেয়েছেন। বসাবাস শুরু করেছেন নিজ বাড়ীতে।
সম্প্রতি উপজেলার আলীপুর গ্রামে ছিন্নমূল পরিবারের জন্য নির্মিত আশ্রয়ন প্রকল্পে গিয়ে দেখা গেছে, প্রত্যেকটি পরিবারের মুখে হাশি। শিশুরা ঘরের আঙ্গিনায় এবং খোলা জায়গায় আপন মনে খেলাধূলায় মেতে উঠেছে। ঘরের আঙ্গিনায় বসে শিশুরা খাচ্ছে। নারীরা হাঁস মুরগী পালন করছেন। কেউ কেউ বসে গল্প করছেন। পুরুষরা বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকের কাজ করছেন। একটি নতুন বাড়ীর জন্য যে ধরণের সুবিধা থাকার দরকার সবই আছে আশ্রয়ন কেন্দ্রে।
উপজেলা প্রশাসনের অর্থায়ন ও সহযোগিতায় প্রত্যেকটি ঘরে পরিবেশ বান্ধব বন্ধু চুলা উপহার দেয়া হয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ সংযোগ, পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানি, ময়লা আবর্জনা ফেলার জন্য ডাস্টবিন ইত্যাদির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিরীন আক্তারের নেতৃত্বে উপজেলার অন্যান্য দপ্তর প্রধানদের একটি টিম।
বিধবা সুফিয়া বেগম বলেন, আমরা দুই ছেলে শ্রমিকের কাজ করেন। স্বামী অনেক বছর আগে মারা গেছেন। অন্যের বাড়ীতে থাকতাম। শেখ হাসিনা ঘর দেওয়ার কারণে এখন ছেলেদের নিয়ে খুবই সুখ শান্তিতে আছি।
আরেক উপকারভোগী বিউটি আক্তার বলেন, আমার ঘর জায়গা কিছুই ছিল না। এতদিন অনেক কষ্ট করে অন্যের বাড়ীতে ছিলাম। এখন আমার সব কিছু হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে ঘর ও জায়গা দিয়েছেন। সন্তানদের নিয়ে আলহামদুল্লিাহ ভাল আছি। প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া করি।
আবুল হোসেন নামে আরেক উপকারভোগী বলেন, আল্লাহর কাছে লাখ লাখ শুকরিয়া প্রধামন্ত্রী আমাদেরকে ঘর করে দিয়েছেন। সাথে রান্না করার চুলা, স্বাস্থ্য সম্মত পায়খানাসহ সব কিছু করে দিয়েছেন। নিজেদের ঘর হবে কখনো কল্পনাও করিনি। কারণ যে টাকা উপার্জন করি তা দিয়ে আমাদের সংসারই চলে না।
জুলেখা ও ফাতেমা বেগম নামে আরো দুই উপকারভোগী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘর পেয়ে আমরা খুবই আনন্দিত। ইউএনও মেডাম আমাদের সব সময় খোঁজ খবর নেন। তিনি এসে আমাদের সমস্যার কথা শুনেন। তিনি বলেছেন, আমাদের কর্মের ব্যবস্থাও করবেন।
উপজেলা প্রকৌশলী রেজওয়ানুর রহমান বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধামন্ত্রীর উপহার আশ্রয়ন কেন্দ্রের প্রত্যেকটি ঘর আমরা খুবই যত্নের সাথে সময় নিয়ে মান সম্মতভাবে সম্পন্ন করেছি। এতে আমাদেরকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছেন।
উপজেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান কামরুন্নাহার কাজল বলেন, আমাদের মাননীয় প্রধামন্ত্রীর অঙ্গীকার দেশে একটি পরিবারও গৃহহীন থাকবে না। সেই লক্ষ্যে আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অত্যন্ত পরিশ্রম করে ৪০টি পরিবারকে ঘর করে দিতে সক্ষম হয়েছেন। এ জন্য সকলের প্রতি উপজেলা পরিষদ কৃতজ্ঞ।
শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিরীন আক্তার বলেন, উপজেলায় প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর উপহার দুইশতক জমিসহ ৪০টি দুই কক্ষ বিশিষ্ট ঘর প্রদান করেছি। জেলা প্রশাসক এর নির্দেশনায় উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটি যাচাই বাছাই শেষে উপকারভোগীদের নিকট এসব ঘর হস্তান্তর করা হয়। এসব ঘর পেয়ে উপকারভোগী লোকজন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে দুহাত তুলে দোয়া করছেন।
তিনি আরো বলেন, সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি ঘর নির্মাণে স্থানীয় সংসদ সদস্যের ব্যাক্তিগত বরাদ্দ, টিআর, কাবিটা ও এডিপি প্রকল্পের আওতায় প্যালাসাইডিং নির্মাণ, মাটি ভরাট, পানি নিস্কাশন ব্যবস্থার জন্য ড্রেন নির্মাণ, নিরাপত্তার জন্য প্রাচীর নির্মাণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ড্রেণ নির্মাণ, আধুনিক পরিবেশ বান্ধব বন্ধু চুলার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। ইতোমধ্যে এসব পরিবারগুলোকে কয়েকবার আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদের কর্মসংস্থান ও জীবনমান উন্নয়নের লক্ষে বিভিন্ন প্রদক্ষেপ গ্রহন পক্রিয়াধীন রয়েছে।





