নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মল্লিকপাড়া জামে মসজিদের ইমাম দিদারুল ইসলামকে জবাই করে হত্যার ঘটনার সঙ্গে জড়িত ঘাতক ওহিদুর জামানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ বুধবার ভোরে মাদারীপুর শিবচর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সোনারগাঁ থানার (এসআই) আবুল কালাম আজাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
ওহিদুর জামান খুলনার নড়াইলের কলাবাড়ীয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক (টুকু) শেখের ছেলে।
আবুল কালাম আজাদ জানান, ঘটনার ৬ দিন পর তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাকে আটক করা হয়। সে মাদারীপুরের শিবচরের স্থানীয় একটি মসজিদে ইমামতি করতো। পরে তার তথ্যমতে আজ বুধবার দুপুরে মল্লিকপাড়া মসজিদের পাশের ডোবা থেকে রক্তমাখা লুঙ্গি ও কোকের দুটি বোতল আলামত হিসেবে উদ্ধার করা হয়।
সোনারগাঁ থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান, উপজেলা মল্লিকপাড়া মসজিদের ইমাম দিদারুল ইসলামের কাছ থেকে সোনার বার কেনার কথা বলে কয়েক দফায় লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেন হত্যার সঙ্গে জড়িত আসামী ওহিদুর জামান। সে নড়াইলের নড়াগাথি উপজেলার কলাবাড়িয়া পশ্চিম পাড়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে ও মাদারীপুর শিবচর উপজেলার একটি মসজিদের ইমাম। নিহত দিদারুল ইসলাম ও খুনী ওহিদুর জামান একে অপরের বন্ধুও বটে। পরে দিদারুল ইসলাম টাকা ফেরত চেয়ে ওহিদুর জামানকে চাপ দিলে তাকে খুনের পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা মতে ওহিদুর জামান ২০ আগস্ট দিদারের সঙ্গে দেখা করে বলে আগামীকাল টাকা দেওয়া হবে জানায়। পরে ঘাতক ওহিদুর জামান শিবচরের পাচঁচর এলাকা থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতিটি ক্রয় করে রাখে এবং সোনারগাঁয়ের মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় এসে ঘুমের ওষুধ ও কোকা কোলার বোতল ক্রয় করে। এর মধ্যে একটি কোকের বোতলে ঘুমের ঔষুধ মিশানো হয়। ঘুমের ওষুধ মিশানো বোতলটি ইমাম দিদারুল ইসলামকে খেতে দেওয়া হয় এবং অন্য বোতলটি সে নিজে খায়। খাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে দিদারুল ইসলাম অচেতন হয়ে পড়লে তাকে গলা কেটে হত্যা করে। নিহত দিদারুল ইসলাম নড়াইলের কালিয়া উপজেলার রাজাপুর গ্রামের আলতাফ ফরাজীর ছেলে। হত্যার পর ইমামের খাতায় “ হিযবুত তাওহীদের সদস্য” সে আমাদের দল থেকে অস্ত্র ও টাকা নিয়ে পালিয়েছে তাই তাকে আমরা মেরে ফেলেছি। পরে ওযুখানায় গোসল করে রক্তমাখা লুঙ্গী পাশের ডোবায় ফেলে রেখে ঢাকার মিরপুর হয়ে মাদারীপুর চলে যায়।
মূলত ঘাতক ওহিদুর জামান পাওনা টাকা ফেরত না দেওয়ার জন্যই পরিকল্পনা মোতাবেক হত্যাকাণ্ড ঘটায়। হত্যাকাণ্ডটি ভিন্নখাতে নেওয়ার জন্য নিষিদ্ধ সংগঠনের নাম ব্যবহার করে। আসামীকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে।





