স্কুলের খেলার মাঠ দখল করে চলছে রমরমা ব্যবসা

ছবি: বাংলাদেশের খবর

সারা দেশ

স্কুলের খেলার মাঠ দখল করে চলছে রমরমা ব্যবসা

  • রিফাত আহমেদ রাসেল, দুর্গাপুর (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

তরুণ প্রজন্ম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইন্টারনেট জগতে দিন দিন আসক্ত হয়ে পড়ছে। আর মাঠে গিয়ে খেলাধুলা করে না বলেই চলে। মোবাইল ফোনে নানা রকম গেম খেলেই পার করে সারা দিন। এই নতুন প্রজন্মকেই মাঠমুখী করতে বর্তমান সরকার স্কুল পর্যায় থেকে শুরু করে বিভিন্ন উদ্যোগও নিয়েছে। কিন্তু খেলার মাঠ এই যখন দখল করে চলছে রমরমা ব্যবসা তাহলে শিশুরা খেলবে কোথায়? এমনই প্রশ্ন নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সচেতন মহলের।   

‘‘ক্রীড়াই শক্তি ক্রীড়াই বল-সুস্থ্য দেহ সুন্দর মন’’ এই প্রবাদটি যেন ভেস্তে যেতে বসেছে দুর্গাপুরে। পৌরশহরের বিরিশিরি পিসিনল মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি মাত্র খেলার মাঠ। তাও গত ৮ বছরের ধরে দখল করে বালুবাহী ট্রাকের রাস্তায় পরিণত করে রমরমা ব্যবসায় শুরু করেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল।

অভিযোগ রয়েছে, গারো ব্যপ্টিষ্ট কনভেনশন (জবিসি) পরিচালিত শতবর্ষ পুরোন বিরিশিরি পিসিনল মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে মোটা অংকের টাকার বিপরীতে মাঠটি দখল করে ডাইভারশন তৈরি করে দেদারছে চলছে ব্যবসা।   তবে মাঠের উপর দিয়ে বালুবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধ করতে এবং মাঠটি নিজেদের জায়গা দাবী করে ২০১৬ সালে জেলা জজ আদালতে একটি মামলাও জিবিসি। বিষয়টি আমলে নিয়ে আদালত মাঠের উপর দিয়ে সকল প্রকার যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। কিন্তু বাস্তবে এর কোনো প্রভাব আজও দেখা যায়নি বলে জানায় জিবিসি কর্তৃপক্ষ।

খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান ও প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন ২০০০ এর ৫নং ধারায় বলা আছে, খেলার মাঠ, অন্য কোনোভাবে ব্যবহার বা অনুরূপ ব্যবহারের জন্য ভাড়া, ইজারা বা হস্তান্তর করা যাবে না। এই আইন লঙ্ঘনে অনধিক পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় সাজার বিধান রয়েছে। কিন্ত এই বিধানকে বৃদ্ধঙ্গুলী দেখিয়ে জিবিসি কর্তৃপক্ষ মাঠ ব্যবহারে বালু ব্যবসায়ীদের সুযোগ করে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মাঠ দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধের প্রতিবাদে ক্রীড়ামোদী জনগণ বেশ কয়েকবার মানববন্ধনও করেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, দীর্ঘদিনের অত্র এলাকার ঐতিহ্যবাহী এই খেলার মাঠের উপর দিয়ে সোমেশ্বরী নদী থেকে বালু, পাথর, কয়লা বহনকারী ট্রাক, লড়িসহ বিভিন্ন যানবাহন বালু পরিবহন করে আসছে। প্রতিদিন প্রায় ৩শ থেকে ৪শ গাড়ী চলাচল করে এই মাঠের উপর দিয়ে। আর মাঠ দিয়ে ট্রাক চলাচলের জন্য প্রতি ট্রাক থেকে ২৫০টাকা করে চাঁদা রাখছে জিবিসি (গারো ব্যপ্টিষ্ট কনভেনশন) ও স্থানীয় একটি প্রভাবশালীর অনুমোদিত একটি মহল বলে জানায় স্থানীয়রা। 

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক আদিবাসী নেতা বলেন, যেখানে খোদ জিবিসি কর্তৃপক্ষ এই চাঁদা উঠানোতে জড়িত রয়েছে সেখানে আদালতের নিষেধাজ্ঞা করবে কি? আইন লঙ্ঘন করে মামলার বিষয়টি আড়াল করে টাকা হাতিয়ে নেয়ার কারনে খেলার মাঠ দিয়ে গাড়ী চলাচলের সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। মাঠের পুরো অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি স্কুলের শিক্ষার্থী, এলাকার সিনিয়র সিটিজেনসহ শিশুরাও বঞ্চিত হচ্ছে খেলাধুলার সুযোগ থেকে।

বিরিশিরি পিসিনল মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজলুল হক বলেন, খেলার মাঠ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, এ নিয়ে নেত্রকোনা জজ কোর্টে মামলাও চলমান, মাঠ থেকে টাকা উঠানোর ব্যপারে আমি কিছু বলতে পারবো না।

স্কুলটি এসএমসি সভাপতি সহ অধ্যাপক সমরেন্দ্র রিছিল বলেন, আমরা অনেকাংশে জিম্মি হয়ে গেছি। আমাদের দুর্বলতার কারনেই সুযোগ নিচ্ছে নানা মহল। টাকা আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে জিবিসি সভাপতি শৈবাল সাংমা‘র সাথে কথা বলতে বলেন।

এ বিষয়ে জিবিসি সভাপতি শৈবাল সাংমা মাঠ থেকে চাঁদা উঠোনোর বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, মাঠের জায়গা জিবিসি‘র নামে রয়েছে, মাঠকে কেন্দ্র করে মামলাও চলছে এর বেশি আর কিছু বলতে পারবো না।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads