২০১০ সাল থেকে মহিলা মেম্বার সালমা বেগম

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

সারা দেশ

২০১০ সাল থেকে মহিলা মেম্বার সালমা বেগম

  • আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২৯ ডিসেম্বর, ২০২১

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে উত্তর ইউনিয়নের ৭,৮ও ৯ নং ওয়ার্ড থেকে সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে টানা তৃতীয় বারের মতো বিজয়ী হয়েছেন সালমা আক্তার। গত ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় এই নির্বাচন। সালমা বেগম উত্তর ইউনিয়নের কল্যাণপুর গ্রামের মো. শাহজাহান মিয়ার স্ত্রী। সততা নিষ্ঠা আর অসহায় মানুষের পাশে থাকায় জনগন তাকে তৃতীয় বারের মতো বিজয়ী করেন। তিনি এলাকায় গরিরের সহায় হিসাবে বেশ পরিচিতি লাভ করেছেন। এলাকায় নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের হলেও তার কোন পিছু টান ছিল না। সব সময় মানুষের মঙ্গলের কথা চিন্তা করত। অসহায় মানুষদেরকে সাহস ও ভরসা দিতো সময় সময়। ৪র্থ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার পদে সূর্যমুখী ফুল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন। এই নির্বাচনে তিনি ১১৯৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। টানা তিন বার বিজয়ী হওয়ায় তার নির্বাচনী এলাকা জুড়ে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। সালমা বেগম ২০১০ সালে প্রথম তিনি সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে নির্বাচন করে বিজয়ী হন। এরপর থেকে তার কর্মদক্ষতার দ্বারা জয়ের দ্বারা তিনি অব্যাহত রেখেছেন। এ জন্য তিনি আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া আদায় করেছেন।
সরেজমিনে উত্তর ইউনিয়নের কল্যাণপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বিজয়ী হওয়ার পর থেকে তার বাড়িতে নানা বয়সের লোকজনের ভিড়। গ্রামের লোকজন তাকে শুভেচ্ছা অভিনন্দন জানাতে বাড়িতে ভিড় করছেন। ওই সময় কারো হতে ফুল, কারো হাতে মিষ্টি বা ফলমূল দেখা গেছে। তিনি ও হাসি মুখে সবার সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন। পুরো গ্রামজুড়ে যেন এক আনন্দের বন্যা বইছে।

সালমা বেগমের স্বামী মো. শাহজাহান বলেন, জনপ্রতিনিধি হওয়ার আগ থেকেই মানুষের সাথে খুবই সুসম্পর্ক নিয়ে সে চলতো। এলাকার ছোট বড় সবার সঙ্গেই তার ছিল তার ভালো সুসম্পর্ক। সে সবাইকে সম্মান করেন। মানুষের আপদ বিপদ শুনামাত্র ছুটে যান। সব সময় এলাকার মানুষের খোঁজ খবর রাখছেন। এসব ছিল তার একটি বড়গুণ। তিনি আরও বলেন চলার পথে তাকে কেউ আগে সালাম দিতে পারেনা কেউ । সে সবার আগে দিয়েছেন। এসব কারণে মানুষ তাকে অসম্ভব ভালবাসেন। ছোটবড় সকলের ভালবাসার কারণেই এলাকার লোকজন নিজের পয়সায় প্রচার করে তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। এজন্য তিনি এলাকর লোকজনের কাছে কৃতজ্ঞ বলে জানায়।

শুভেচ্ছা জানাতে আসা প্রতিবেশী আলমগীর হোসেন, লিমন মিয়া, গৃহিনী মোমেনা বেগম, শেফালী আক্তার বলেন, সালমা বেগমের মতো এমন মহিলা আমরা আর দেখিনি। এলাকার লোকদের সুখে দু:খে আপদে বিপদে সব সময় তাকে কাছে পাওয়া যায়। কোথাও কেউ বিপদে পড়েছে শুনামাত্র তিনি হাজির হন। বিশেষ করে কেউ অসুস্থ বা প্রসবজনিত সমস্যায় পড়লে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি, চিকিৎসার ব্যবস্থ্যা এমনকি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত পাশে থাকেন তিনি। সব সময় মানুষের খোঁজ-খবর নেন। তৃতীয় বারের মতো বিজয়ী হওয়ায় তারা খুবই খুশি বলে জানায়।

সালমা বেগম বলেন, ২০১০ প্রথম তিনি নির্বাচন করেন। ওই সময় তাকে এলাকার লোকজন বেশ সহযোগিতা করেন। তখন তিনি নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে তেমন কিছুই বুঝতেন না । পোস্টার এবং নির্বাচনী খরচ এলাকার অনেক লোকজন তাকে দিয়েছিল। ওই নির্বাচনে ভালো ভোটে বিজয় হন বলে জানায়। এরপর প্রতিটি নির্বাচনেই তিনি এলাকাবাসীর অনুরোধে প্রার্থী হন। এই নির্বাচনেও এলাকার লোকজন তাকে পোস্টার দিয়েছে। দোকান পাটে চা খাওয়াতে আমাকে দেন নাই। পোস্টার লাগাতে রশি পযর্ন্ত লোকজন দিয়েছে। তিনি আরও বলেন এলাকার মানুষের কাজ করতে গিয়ে কখনও তিনি স্বামী, ছেলে মেয়ে সংসার করতে ভুলে যাননি তিনি। সংসার ও বাইরে তার ছিল সমান দৃষ্টি। প্রতিবারই নির্বাচনে আমার এলাকার লোকজন আমাকে সর্বদিন দিয়ে সহযোগিতা করেছে। আমি তাদের প্রতিদান কখনও দিতে পারব না। আমি এই গ্রামের পুত্রবধূ হতে পেরে অনেক গর্বিত। বাকি জীবন একইভাবে মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চান তিনি। তার ২ ছেলে, ১ মেয়ে রয়েছে।

তিনি বলেন, আমি পুরো এলাকাকে তার নিজের পরিবার বলে মনে করেন। তাই এলাকাবাসীর সুখে দুঃখে সব সময় পাশে থাকার চেষ্টা করেন।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা সুফিয়া সুলতানা বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করেন বলে জানায়।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads