সারা দেশ

৫ আগষ্ট শর্টগানের ছররার গুলিতে আহত হয়ে নীলফামারী হাসপাতালে কাতরাচ্ছে ৮ জন

  • ''
  • প্রকাশিত ২১ অগাস্ট, ২০২৪

নীলফামারী প্রতিনিধি:

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন (৫ আগষ্ট) কোটা সংস্কার আন্দোলনে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় পুলিশের শর্টগানের ছররার গুলিতে আহত হয়ে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে ৭৪ জন ভর্তি হয়েছিল।

এর মধ্যে চিকিৎসাধীন ছিলেন, ৪৩জন এবং প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৩১জন। বুধবার (২১ আগষ্ট) সকালে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের নতুন ভবনের চার তলায় (চক্ষু বিভাগ) ছররার গুলির যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে ৮জন আন্দোলনকারী রোগী।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তিনজন গুরুতর আহত আন্দোলনকারীকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতরা হলেন, আল-আমিন (১৮), শোভন (৪২) ও শাওন (২০)।

আহতদের মধ্যে খোকন ইসলাম (২৮) জানান, আমার বাবা আজির উদ্দিন পৃথিবীতে বেঁচে নাই। চার ভাই এক বোনের মধ্যে তৃতীয় আমি। পুরো পরিবারের ভরণপোশন আমাকে চালাতে হয়। কিন্ত বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের শর্টগানের ছররার গুলিতে আহত হয়ে ১৫দিন যাবত শরীরের যন্ত্রণায় নীলফামালী জেনারেল হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছি কিন্ত্র এখন পর্যন্ত কেউ সহমর্মিতা জানাতেও এলোনা। দুঃখ হলেও সত্য যে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতন হলো, নতুন বাংলাদেশ তৈরি হলো, অন্তর্বর্তী সরকার গঠন হলো কিন্ত আমাদের কেউ খবর নিলো না।

একই ওয়ার্ডের সৌমিক হাসান সোহাগ (১৮) আইএ ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী জানান, ‘আন্দোলন করে গুলি খেয়ে আহত হয়ে হাসপাতালের বিছানায় মরনযন্ত্রনা ভোগ করছি। নতুনভাবে বাংলাদেশ গঠিত হলো। তবে ১৫ দিনেও সরকারের পক্ষ থেকে কেউ খোঁজ খবর নিতে এলো না। নেই প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র। এখন বাবা,মা ছাড়া বিপদে পাশে কেউ থাকে না।’

নীলফামারী পৌর শহরের কুখাপাড়া মহল্লার সামিম হোসেনের ছেলে সোহাগ বলেন, ‘দুই ভাই, দুই বোন, বাবা ক্ষুদ্র কাপড় ব্যবসায়ী। কিছুদিন আগে আমার বাবা ষ্ট্রোক করেছে। তার বড় ছেলে হিসেবে আমিও হাসপাতালে। বাবার চিকিৎসার খরচ চালাতে পারছিনা। বর্তমানে অভাব অনাটনে আমাদের দিন পার হচ্ছে। তিনি বলেন, নেতারা দল বদলের আন্দোলন নিয়ে ব্যস্ত। আমরা কি খাচ্ছি, কি করছি কেউ তার খবর রাখে না।’

সোহাগ ও খোকনের মতো বুলবুল ইসলাম (৩৬), রেজাউল ইসলাম (২৬), রানা ইসলাম (১৯), সাকিল হোসেন (২৭), মুন্না (২০) অভিযোগ করে বলেন, ‘৫ আগস্ট বিকালে পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে নীলফামারী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হই। আমাদের মতো গুলিবিদ্ধ আরও ৪৩ জনের মধ্যে অনেকেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে, কিন্ত আমরা গুরুতর গুলিবিদ্দ হওয়ায় হাসপাতালে দিন কাটছে। কবে বাড়ি ফিরতে পারবো জানি না। চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা আমাদের জন্য দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। আমাদের দেখার কেউ নেই।’

‘গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া আরেক আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী সাকিল হোসেন জানান, আমাদের চাপের মুখে দুই দিন আগে (১৮ আগষ্ট) আমাদের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আলাদা ওয়ার্ডসহ বিনামূল্যের সব ব্যবস্থা করেছে। তিনি জানান, যাদের দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিতে হবে, সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত সরকারকে সকল চিকিৎসার দায়ভার নেয়ার অনুরোধ জানাই।’

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মো. আব্দুর রহিম জানান, ৫ আগষ্ট বিকাল থেকে আহত শিক্ষার্থী ও জনতা ভর্তি হতে থাকে। সেদিনেই ৩১জন প্রাথমিক সেবা নিয়ে বাড়ী ফিরে গেছে। আর বাকী ৪৩জন এখানে সেবা নেন। এখন অধিকাংশই সুস্থ্য। তাদের চিকিৎসাধীন ৮জনকে সব ধরণের সুযোগ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ‘বর্তমানে ৮জন চিকিৎসাধীন রয়েছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের আগে ও পরে যারা আহত হয়ে হাসপাতালে এসেছেন, তাদের গুরুত্ব সহকারে চিকিৎসাসহ তাদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। চিকিৎসক, নার্স এবং কর্মচারীরা ২৪ ঘন্টা দায়িত্ব পালন করছেন। বিনামূল্যে ওষুধ পরীক্ষা নিরীক্ষাসহ সব ধরনের সুযোগ সুবিধা তাদের দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে অনেকেই সুস্থ হয়ে বাড়ী ফিরে গেছেন। তিনি বলেন, বাকি যারা এখনও হাসপাতালে ভর্তি, তাদের বিনা মূলে সুচিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads